উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আগামী রোববারের (১৪ জুন) মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে উঠে এসেছে। কটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে উঠে এসেছে।
একটি পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চুক্তির খসড়াটি চূড়ান্ত করার কাজ এখনও চলছে, এবং এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননেও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে এমন দাবিতে এখনও অনড় রয়েছে ইরান। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারের (১৩ জুন) মধ্যে চুক্তির বয়ান চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এতে স্বাক্ষর করতে পারেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সাথে আমরা যুদ্ধের একটি দুর্দান্ত সমাধান করতে পেরেছি। এই সফল আলোচনার প্রেক্ষিতেই তিনি ইরানে নতুন করে মার্কিন বিমান হামলা বাতিলের নির্দেশ দেন।
তবে চুক্তির খসড়া শর্তাবলি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এতে মূলত তেহরানের দাবিগুলোই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ট্রাম্পের একমাত্র বড় অর্জন হতে যাচ্ছে হরমুজ প্রণালি পুনরুন্মুক্ত করা, যা গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন হামলার পর ইরান বন্ধ করে দিয়েছিল। ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে, ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করা হবে এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে শত্রুতা ও সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে।
তবে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত পারমাণবিক বিষয়টি আপাতত একপাশে সরিয়ে পরবর্তী আলোচনার জন্য রাখা হচ্ছে। এছাড়া ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা পেশ করতে হবে।
এই শান্তি চুক্তির আভাসের পর বিশ্ব শেয়ার বাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের পর ট্রাম্প এর আগেও কয়েকবার চুক্তি কাছাকাছি থাকার কথা বললেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। তবে এবার এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত কয়েক দিনে ইরান ও ইসরাইলের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময় এবং মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার পর ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানকে বাজার ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অনুমোদন পাওয়ার পরই এই চুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।
অবশ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে যাওয়া দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কারণ তেলের উচ্চমূল্যের কারণে তার জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে এই শান্তি আলোচনা থেকে ইসরাইলকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখায় তেল আবিব অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারকের কোনো পক্ষ ইসরাইল নয়।
সূত্র: রয়টার্স।
এমএইচ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 




















