জেফরি এপস্টেইন মামলার আরও ১০ লাখ নথি উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন মামলাসংশ্লিষ্ট আরও ১০ লাখের বেশি নতুন নথি খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিশাল নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং নিউ ইয়র্কের ফেডারেল প্রসিকিউটররা এই নতুন তথ্য পাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগকে অবহিত করেছেন। এপস্টেইন-সংক্রান্ত সব নথিপত্র প্রকাশের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ১৯ ডিসেম্বর পার হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে মার্কিন বিচার বিভাগ তীব্র চাপের মুখে রয়েছে, যার প্রেক্ষাপটে এই নতুন তথ্য সামনে এলো।

বিচার বিভাগ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার স্বার্থে আইন অনুযায়ী সংবেদনশীল তথ্যগুলো আড়াল বা গোপন করার জন্য আইনজীবীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় আইনি যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব এই বিপুল নথিপত্র সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তবে ঠিক কীভাবে বা কোথা থেকে এফবিআই এবং সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নিরা হঠাৎ এত বিপুল সংখ্যক নথির সন্ধান পেলেন, সে বিষয়ে বিবৃতিতে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এর আগে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি বিশেষ আইনের আওতায় এপস্টেইনের অপরাধ জগতের কয়েক হাজার ভিডিও, ছবি, ই-মেইল এবং তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

জেফরি এপস্টেইনকে ২০১৯ সালে শিশুদের যৌন নিপীড়ন এবং নারী পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে বিচারকাজ শুরু হওয়ার আগেই কারাগারের ভেতরে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক যৌনচক্র পরিচালনা করতেন, যেখানে কিশোরীদের পাচার করে বিশ্বের ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হতো।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউ ইয়র্কের একটি আদালত মামলার নথিগুলো প্রকাশের অনুমতি দিলে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের মতো বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম সামনে আসে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়।

২০১৫ সালে ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামের এক নারী প্রথম এপস্টেইন ও তার বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে যৌন ব্যবসার কাজে ব্যবহারের জন্য কিশোরী বয়সে তাকে পাচারের অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার সূত্র ধরেই একে একে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অন্ধকার জগতের তথ্য ফাঁস হতে শুরু করে।

বর্তমানে খুঁজে পাওয়া নতুন ১০ লাখ নথিতে আরও অনেক অজানা তথ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগ আশ্বস্ত করেছে যে, তারা ফেডারেল আইন অনুযায়ী পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে নথিপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

সূত্র: বিবিসি

এমএইচ

জনপ্রিয়

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে বড় বাধা মার্কিন অস্ত্রের ঘাটতি

জেফরি এপস্টেইন মামলার আরও ১০ লাখ নথি উদ্ধার

প্রকাশিত : ১১:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন মামলাসংশ্লিষ্ট আরও ১০ লাখের বেশি নতুন নথি খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিশাল নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং নিউ ইয়র্কের ফেডারেল প্রসিকিউটররা এই নতুন তথ্য পাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগকে অবহিত করেছেন। এপস্টেইন-সংক্রান্ত সব নথিপত্র প্রকাশের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ১৯ ডিসেম্বর পার হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে মার্কিন বিচার বিভাগ তীব্র চাপের মুখে রয়েছে, যার প্রেক্ষাপটে এই নতুন তথ্য সামনে এলো।

বিচার বিভাগ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার স্বার্থে আইন অনুযায়ী সংবেদনশীল তথ্যগুলো আড়াল বা গোপন করার জন্য আইনজীবীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় আইনি যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব এই বিপুল নথিপত্র সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তবে ঠিক কীভাবে বা কোথা থেকে এফবিআই এবং সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নিরা হঠাৎ এত বিপুল সংখ্যক নথির সন্ধান পেলেন, সে বিষয়ে বিবৃতিতে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এর আগে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি বিশেষ আইনের আওতায় এপস্টেইনের অপরাধ জগতের কয়েক হাজার ভিডিও, ছবি, ই-মেইল এবং তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

জেফরি এপস্টেইনকে ২০১৯ সালে শিশুদের যৌন নিপীড়ন এবং নারী পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে বিচারকাজ শুরু হওয়ার আগেই কারাগারের ভেতরে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক যৌনচক্র পরিচালনা করতেন, যেখানে কিশোরীদের পাচার করে বিশ্বের ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হতো।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউ ইয়র্কের একটি আদালত মামলার নথিগুলো প্রকাশের অনুমতি দিলে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের মতো বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম সামনে আসে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়।

২০১৫ সালে ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামের এক নারী প্রথম এপস্টেইন ও তার বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে যৌন ব্যবসার কাজে ব্যবহারের জন্য কিশোরী বয়সে তাকে পাচারের অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার সূত্র ধরেই একে একে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অন্ধকার জগতের তথ্য ফাঁস হতে শুরু করে।

বর্তমানে খুঁজে পাওয়া নতুন ১০ লাখ নথিতে আরও অনেক অজানা তথ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগ আশ্বস্ত করেছে যে, তারা ফেডারেল আইন অনুযায়ী পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে নথিপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

সূত্র: বিবিসি

এমএইচ