অবিশ্বাস্য হারে শেষ চারের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

অবিশ্বাস্য ব্যাটিং–ধসে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাঁচা-মরার ম্যাচে হেরে গেল বাংলাদেশ। অথচ মনে হচ্ছিল জয়ের খুব কাছেই দেশের মেয়েরা, শেষ চারে উঠা সময়ের ব্যাপার। ৬ উইকেট হাতে রেখে ১২ বলে ১২ রানের সমীকরণ।

শেষ দুই ওভারে কী যেন কী হল! বিশেষ করে শেষ ওভারে। শেষ ওভারের আগের ওভারে ৩ রানের সুবাদে দরকার গেল ৬ বলে ৯ রান। তখনো হাতে ৫ উইকেট। আর সবচেয়ে বড় কথা ৭৭ রান নিয়ে টিকে ছিলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা। বল হাতে চামারি আতাপাত্তু, নিগার স্ট্রাইকে ছিলেন না প্রথম বলে। রাবেয়া খান হয়ে গেলেন এলবিডব্লু। পরের বলে অধিনায়ককে স্ট্রাইক দিতে পড়িমরি ১ রান নিতে গিয়ে সরাসরি থ্রোতে নন–স্ট্রাইকিং প্রান্তে  নাহিদা আক্তার রানআউট হন। স্ট্রাইক পেয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দিলেন নিগার। টানা তিন বলে উইকেট হারানো বাংলাদেশ চতুর্থ বলেও উইকেট হারাল। এলবিডব্লু হলেন মারুফা আক্তার।

টানা চার বলে চার আউটে ৬ বলে ৯ রানের সমীকরণ ততক্ষণে হয়ে গেছে ২ বলে ৯ রান। পঞ্চম বলে নিশিতা আক্তার যখন ১ রান নিলেন, ম্যাচ আর বাংলাদেশের হাতে নেই। শেষ বলে ব্যাটে-বলে হয়নি। ফল ৯ উইকেটে ১৯৫ রানে থেমে ৭ রানে হেরে শেষ চারের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের।

অথচ ম্যাচের শুরুটা দারুণই ছিল বাংলাদেশের। প্রথম বলেই মারুফা আক্তারের ইনসুইঙ্গারে এলবিডব্লু শ্রীলঙ্কার ওপেনার বিস্মি গুনারত্নে। এরপর হাসিনি পেরেরাকে নিয়ে আতাপাত্তুর ৭২ রানের জুটি। আতাপাত্তু ফিরেন ৪৬ রানে। আর দুবার জীবন পাওয়া হাসিনি করেছেন ৮৫ রান। এরপর বাংলাদেশ ভালোভাবেই ম্যাচে ফিরে শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করেছিল ২০২ রানে।

যদিও রান তাড়ায় শুরুটা তেমন ভালো ছিল না বাংলাদেশ। ১৫.৩ ওভারে ৪৪ রানেই ৩ উইকেটের পতন। এরপর শারমিন আক্তারকে নিয়ে ৮২ রানের জুটি নিগারের। ৩৬তম ওভারে রান নিতে গিয়ে পায়ে টান পড়ে শারমিনের। যন্ত্রণায় টিকতে না পেরে উঠে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন ৬৪ রান করা ব্যাটার।

তবে আস্থা হয়ে তখনো টিকে ছিলেন নিগার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর ৯৮ বলের ৭৭ রানের ইনিংসটা কোনো কাজেই এল না। ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে প্রথমবার হারিয়ে শেষ চারের স্বপ্ন বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে বড় বাধা মার্কিন অস্ত্রের ঘাটতি

অবিশ্বাস্য হারে শেষ চারের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

প্রকাশিত : ০৪:৪৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

অবিশ্বাস্য ব্যাটিং–ধসে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাঁচা-মরার ম্যাচে হেরে গেল বাংলাদেশ। অথচ মনে হচ্ছিল জয়ের খুব কাছেই দেশের মেয়েরা, শেষ চারে উঠা সময়ের ব্যাপার। ৬ উইকেট হাতে রেখে ১২ বলে ১২ রানের সমীকরণ।

শেষ দুই ওভারে কী যেন কী হল! বিশেষ করে শেষ ওভারে। শেষ ওভারের আগের ওভারে ৩ রানের সুবাদে দরকার গেল ৬ বলে ৯ রান। তখনো হাতে ৫ উইকেট। আর সবচেয়ে বড় কথা ৭৭ রান নিয়ে টিকে ছিলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা। বল হাতে চামারি আতাপাত্তু, নিগার স্ট্রাইকে ছিলেন না প্রথম বলে। রাবেয়া খান হয়ে গেলেন এলবিডব্লু। পরের বলে অধিনায়ককে স্ট্রাইক দিতে পড়িমরি ১ রান নিতে গিয়ে সরাসরি থ্রোতে নন–স্ট্রাইকিং প্রান্তে  নাহিদা আক্তার রানআউট হন। স্ট্রাইক পেয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দিলেন নিগার। টানা তিন বলে উইকেট হারানো বাংলাদেশ চতুর্থ বলেও উইকেট হারাল। এলবিডব্লু হলেন মারুফা আক্তার।

টানা চার বলে চার আউটে ৬ বলে ৯ রানের সমীকরণ ততক্ষণে হয়ে গেছে ২ বলে ৯ রান। পঞ্চম বলে নিশিতা আক্তার যখন ১ রান নিলেন, ম্যাচ আর বাংলাদেশের হাতে নেই। শেষ বলে ব্যাটে-বলে হয়নি। ফল ৯ উইকেটে ১৯৫ রানে থেমে ৭ রানে হেরে শেষ চারের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের।

অথচ ম্যাচের শুরুটা দারুণই ছিল বাংলাদেশের। প্রথম বলেই মারুফা আক্তারের ইনসুইঙ্গারে এলবিডব্লু শ্রীলঙ্কার ওপেনার বিস্মি গুনারত্নে। এরপর হাসিনি পেরেরাকে নিয়ে আতাপাত্তুর ৭২ রানের জুটি। আতাপাত্তু ফিরেন ৪৬ রানে। আর দুবার জীবন পাওয়া হাসিনি করেছেন ৮৫ রান। এরপর বাংলাদেশ ভালোভাবেই ম্যাচে ফিরে শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করেছিল ২০২ রানে।

যদিও রান তাড়ায় শুরুটা তেমন ভালো ছিল না বাংলাদেশ। ১৫.৩ ওভারে ৪৪ রানেই ৩ উইকেটের পতন। এরপর শারমিন আক্তারকে নিয়ে ৮২ রানের জুটি নিগারের। ৩৬তম ওভারে রান নিতে গিয়ে পায়ে টান পড়ে শারমিনের। যন্ত্রণায় টিকতে না পেরে উঠে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন ৬৪ রান করা ব্যাটার।

তবে আস্থা হয়ে তখনো টিকে ছিলেন নিগার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর ৯৮ বলের ৭৭ রানের ইনিংসটা কোনো কাজেই এল না। ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে প্রথমবার হারিয়ে শেষ চারের স্বপ্ন বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ।