যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ককে নিয়ে ‘মিডল ইস্ট আই’-এ প্রকাশিত আমিনা শরিফের নিবন্ধে তাকে সমসাময়িক সুদূর-ডানপন্থী রাজনীতি ও জাতিগত উত্তেজনার এক মূল কারিগর হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক সরাসরি ইসলামবিরোধিতা অস্বীকার না করে অভিবাসী ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রচলিত চরম ডানপন্থী বিভিন্ন তত্ত্বের পুনরাবৃত্তি করেছেন। সমালোচকদের মতে, তিনি সচেতনভাবেই মুসলিমদের সহজাত সহিংসতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন।
মাস্ক কেবল বর্ণবাদী ধারণাপোষী ধনকুবের নন, বরং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ ব্যবহার করে তিনি শ্বেতাঙ্গদের ক্ষমতা হারানোর ভীতি, ‘হোয়াইট জেনোসাইড’ ও ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ তত্ত্বের মতো জাতিগত মেরুকরণকে পুনরুজ্জীবিত করছেন।
ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে তার বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি এবং বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তার মন্তব্য প্রমাণ করে যে তিনি পরোক্ষভাবে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ববাদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। নিজের বিশাল সম্পদ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তিনি বিশ্বজুড়ে কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলন, দল ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ অর্থায়ন ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।
মাস্ক বারবার ‘গৃহযুদ্ধ’ অনিবার্য বলে মন্তব্য করে তার অনুসারীদের বিচারবহির্ভূত সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। ইউরোপের অভিবাসী সংকট নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো এবং বিভিন্ন ঘটনার ভুল উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি জাতিগত উত্তেজনা বাড়িয়ে চলেছেন।
নিজেকে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করলেও, তার রাজনৈতিক কার্যক্রম ও ডিজিটাল পরিকাঠামো রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করছে। আসল বিপদ তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসে নয়, বরং তিনি কোটি কোটি মানুষকে যা বিশ্বাস করতে শেখাচ্ছেন এবং তার পরিণতিতে ভবিষ্যতে যা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এমএইচ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





















