যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় চাপে ক্রিপ্টো বাজার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর (হকিশ) নীতিগত অবস্থানের কারণে শুক্রবারও (১৯ জুন) চাপে ছিল বৈশ্বিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার। বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কয়েনমার্কেটক্যাপ-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন গত ২৪ ঘণ্টায় ২.২১ শতাংশ কমে প্রায় ৬২ হাজার ৭০০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। ভারতে এর মূল্য ছিল প্রায় ৫৯.২৭ লাখ রুপি।

অন্যদিকে, ইথেরিয়ামের দাম নেমে এসেছে প্রায় ১,৭০০ ডলারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.৬০ লাখ রুপি। এতে বোঝা যাচ্ছে, পুরো ক্রিপ্টো বাজারেই দুর্বলতা বিরাজ করছে।

অল্টকয়েনেও দরপতন

বিটকয়েনের পতনের প্রভাব পড়েছে অন্যান্য জনপ্রিয় ডিজিটাল মুদ্রার ওপরও।

  • বিএনবি (BNB) লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫৭৫.৩১ ডলারে
  • সোলানা (SOL)-এর দাম ছিল প্রায় ৬৮.৬৪ ডলার
  • এক্সআরপি (XRP) লেনদেন হয়েছে প্রায় ১.১৩ ডলারে
  • ডোজকয়েন (DOGE)-এর মূল্য ছিল প্রায় ০.০৮৩ ডলার

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে সতর্ক অবস্থানে থাকায় বড় মূলধনী ক্রিপ্টো সম্পদগুলোর বেশিরভাগই নিম্নমুখী রয়েছে।

শান্তি চুক্তি বিলম্ব ও ফেডের বার্তায় বাজারে চাপ

ক্রিপ্টো বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মাডরেক্স’র প্রধান কোয়ান্ট বিশ্লেষক অক্ষত সিদ্ধান্ত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হতে দেরি হওয়া এবং ইসরাইলকে ঘিরে সম্ভাব্য নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে।

তার মতে, এর ফলে প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি (লং) পজিশন লিকুইডেশন হয়েছে, যা বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ জিওটাস ডটকম-এর প্রধান নির্বাহী বিক্রম সুব্বুরাজ বলেন, বর্তমানে বাজার মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্রিপ্টো ইটিএফ-এ অর্থ প্রবাহের ওপর নির্ভর করছে।

তিনি বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত ঋণনির্ভর বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের চাহিদা স্পষ্টভাবে না বাড়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাই বেশি যুক্তিযুক্ত হতে পারে।

ফেডের অবস্থান ও নতুন তালিকাভুক্তির প্রভাব

ক্রিপ্টো বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কয়েনসুইচ মার্কেটস ডেস্ক জানিয়েছে, ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও তাদের নতুন পূর্বাভাসে ভবিষ্যতে প্রত্যাশার তুলনায় কম সুদহার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে।

এ ছাড়া অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য বাজার তালিকাভুক্তি (লিস্টিং) কিছু বিনিয়োগকারীর অর্থ ক্রিপ্টো বাজার থেকে অন্য খাতে সরিয়ে নিতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

বিটকয়েনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মূল্যসীমা

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজারের দিক নির্ধারণে বিটকয়েনের ৬২ হাজার ২০০ থেকে ৬২ হাজার ৮০০ ডলার মূল্যসীমা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ৬৪ হাজার ৭০০ থেকে ৬৬ হাজার ডলার প্রতিরোধসীমা অতিক্রম করতে পারলে বাজারে নতুন ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: গ্যাজেট ৩৬০
এমএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

১৭ বছরের আন্দোলনেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি: রিজভী

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় চাপে ক্রিপ্টো বাজার

প্রকাশিত : ০৩:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর (হকিশ) নীতিগত অবস্থানের কারণে শুক্রবারও (১৯ জুন) চাপে ছিল বৈশ্বিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার। বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কয়েনমার্কেটক্যাপ-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন গত ২৪ ঘণ্টায় ২.২১ শতাংশ কমে প্রায় ৬২ হাজার ৭০০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। ভারতে এর মূল্য ছিল প্রায় ৫৯.২৭ লাখ রুপি।

অন্যদিকে, ইথেরিয়ামের দাম নেমে এসেছে প্রায় ১,৭০০ ডলারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.৬০ লাখ রুপি। এতে বোঝা যাচ্ছে, পুরো ক্রিপ্টো বাজারেই দুর্বলতা বিরাজ করছে।

অল্টকয়েনেও দরপতন

বিটকয়েনের পতনের প্রভাব পড়েছে অন্যান্য জনপ্রিয় ডিজিটাল মুদ্রার ওপরও।

  • বিএনবি (BNB) লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫৭৫.৩১ ডলারে
  • সোলানা (SOL)-এর দাম ছিল প্রায় ৬৮.৬৪ ডলার
  • এক্সআরপি (XRP) লেনদেন হয়েছে প্রায় ১.১৩ ডলারে
  • ডোজকয়েন (DOGE)-এর মূল্য ছিল প্রায় ০.০৮৩ ডলার

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে সতর্ক অবস্থানে থাকায় বড় মূলধনী ক্রিপ্টো সম্পদগুলোর বেশিরভাগই নিম্নমুখী রয়েছে।

শান্তি চুক্তি বিলম্ব ও ফেডের বার্তায় বাজারে চাপ

ক্রিপ্টো বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মাডরেক্স’র প্রধান কোয়ান্ট বিশ্লেষক অক্ষত সিদ্ধান্ত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হতে দেরি হওয়া এবং ইসরাইলকে ঘিরে সম্ভাব্য নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে।

তার মতে, এর ফলে প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি (লং) পজিশন লিকুইডেশন হয়েছে, যা বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ জিওটাস ডটকম-এর প্রধান নির্বাহী বিক্রম সুব্বুরাজ বলেন, বর্তমানে বাজার মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্রিপ্টো ইটিএফ-এ অর্থ প্রবাহের ওপর নির্ভর করছে।

তিনি বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত ঋণনির্ভর বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের চাহিদা স্পষ্টভাবে না বাড়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাই বেশি যুক্তিযুক্ত হতে পারে।

ফেডের অবস্থান ও নতুন তালিকাভুক্তির প্রভাব

ক্রিপ্টো বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কয়েনসুইচ মার্কেটস ডেস্ক জানিয়েছে, ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও তাদের নতুন পূর্বাভাসে ভবিষ্যতে প্রত্যাশার তুলনায় কম সুদহার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে।

এ ছাড়া অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য বাজার তালিকাভুক্তি (লিস্টিং) কিছু বিনিয়োগকারীর অর্থ ক্রিপ্টো বাজার থেকে অন্য খাতে সরিয়ে নিতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

বিটকয়েনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মূল্যসীমা

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজারের দিক নির্ধারণে বিটকয়েনের ৬২ হাজার ২০০ থেকে ৬২ হাজার ৮০০ ডলার মূল্যসীমা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ৬৪ হাজার ৭০০ থেকে ৬৬ হাজার ডলার প্রতিরোধসীমা অতিক্রম করতে পারলে বাজারে নতুন ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: গ্যাজেট ৩৬০
এমএইচ