ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে ৭০ বিলিয়ন ডলারের অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র সিনেট।

শুক্রবার (৫ জুন) দীর্ঘ বিতর্ক ও একাধিক সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির পর বিলটি পাশ হয়। তবে ভোটের আগে রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও প্রকাশ্যে আসে, যা ট্রাম্পের কিছু বিতর্কিত নীতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে।

পাস হওয়া বিলের আওতায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এবং সীমান্ত টহল বাহিনীর কার্যক্রমে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়জুড়ে অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। কয়েক মাস ধরে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধের পর এই অনুমোদন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এখন বিলটি অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হবে। রিপাবলিকান নেতারা আশা করছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এটি পাস করিয়ে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো সম্ভব হবে।

চলতি বছরের শুরুতে অভিবাসন আইন প্রয়োগে নতুন অর্থ বরাদ্দ নিয়ে বিরোধের কারণে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ডেমোক্র্যাটরা এ ধরনের এলাকায় অভিযান চালানো এবং কর্মকর্তাদের মাস্ক ব্যবহারের মতো কৌশলের ওপর বিধিনিষেধ ছাড়া নতুন অর্থায়নে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু রিপাবলিকানরা সেই দাবি নাকচ করে দ্রুত ‘বাজেট রিকনসিলিয়েশন’ প্রক্রিয়ায় বিলটি এগিয়ে নেয়।

সিনেটে ভোটের আগে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ‘ভোট-এ-রামা’ নামে পরিচিত বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আইনপ্রণেতারা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিভিন্ন বিষয়ে ভোটাভুটি করেন।

এই প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন বিতর্কও সামনে আসে। এর মধ্যে ছিল সরকারের দ্বারা অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা ট্রাম্প-সমর্থকদের জন্য প্রস্তাবিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল এবং হোয়াইট হাউসে পরিকল্পিত নতুন বলরুমের নিরাপত্তা খাতে এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের বিষয়টি। যদিও মূল বিলে বলরুম-সংক্রান্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি, তবু এসব বিষয় রিপাবলিকানদের একাংশের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ বাড়তে থাকায় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অগ্রাধিকারগুলোকে সমর্থন দেওয়া নিয়ে রিপাবলিকানদের ভেতরে যে দ্বিধা রয়েছে, সিনেটের এই ভোটাভুটি সেই বাস্তবতাই স্পষ্ট করেছে।

সূত্র: সিএনএ
এমএইচ

ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে ৭০ বিলিয়ন ডলারের অনুমোদন

প্রকাশিত : ০৮:২৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র সিনেট।

শুক্রবার (৫ জুন) দীর্ঘ বিতর্ক ও একাধিক সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির পর বিলটি পাশ হয়। তবে ভোটের আগে রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও প্রকাশ্যে আসে, যা ট্রাম্পের কিছু বিতর্কিত নীতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে।

পাস হওয়া বিলের আওতায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এবং সীমান্ত টহল বাহিনীর কার্যক্রমে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়জুড়ে অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। কয়েক মাস ধরে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধের পর এই অনুমোদন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এখন বিলটি অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হবে। রিপাবলিকান নেতারা আশা করছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এটি পাস করিয়ে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো সম্ভব হবে।

চলতি বছরের শুরুতে অভিবাসন আইন প্রয়োগে নতুন অর্থ বরাদ্দ নিয়ে বিরোধের কারণে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ডেমোক্র্যাটরা এ ধরনের এলাকায় অভিযান চালানো এবং কর্মকর্তাদের মাস্ক ব্যবহারের মতো কৌশলের ওপর বিধিনিষেধ ছাড়া নতুন অর্থায়নে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু রিপাবলিকানরা সেই দাবি নাকচ করে দ্রুত ‘বাজেট রিকনসিলিয়েশন’ প্রক্রিয়ায় বিলটি এগিয়ে নেয়।

সিনেটে ভোটের আগে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ‘ভোট-এ-রামা’ নামে পরিচিত বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আইনপ্রণেতারা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিভিন্ন বিষয়ে ভোটাভুটি করেন।

এই প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন বিতর্কও সামনে আসে। এর মধ্যে ছিল সরকারের দ্বারা অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা ট্রাম্প-সমর্থকদের জন্য প্রস্তাবিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল এবং হোয়াইট হাউসে পরিকল্পিত নতুন বলরুমের নিরাপত্তা খাতে এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের বিষয়টি। যদিও মূল বিলে বলরুম-সংক্রান্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি, তবু এসব বিষয় রিপাবলিকানদের একাংশের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ বাড়তে থাকায় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অগ্রাধিকারগুলোকে সমর্থন দেওয়া নিয়ে রিপাবলিকানদের ভেতরে যে দ্বিধা রয়েছে, সিনেটের এই ভোটাভুটি সেই বাস্তবতাই স্পষ্ট করেছে।

সূত্র: সিএনএ
এমএইচ