জাতীয় গোপনীয় ডাটাবেজ থেকে অবৈধভাবে নাগরিকদের গোপনীয় সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের পর ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এ ঘটনায় মো. আরমান হোসেন নামে অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডেভেলপারকে গ্রেপ্তারের পর সিআইডি বলছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র গোপনীয় সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে। এই চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া আরমানের হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
আরমান হোসেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তদন্তের এক পর্যায়ে আরমানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার পর গত ৫ মে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি দল মানিকদি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোন, ৩টি বিকাশ মার্চেন্ট সিম, ৬টি সিমকার্ড এবং ১টি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, গত বছরের ৯ অক্টোবর সকালে সিআইডির সদর দপ্তরের সাইবার পুলিশ সেন্টারের অধীন সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিংকালে ‘সিয়াম হাওলাদার’ নামে একটি ফেসবুক আইডি নজরে আসে। যেখানে দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) পূর্ণাঙ্গ ডেটা, এসএমএস তালিকা, বিকাশ/রকেট/নগদসহ বিভিন্ন এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিআইডি অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাতে লক্ষ্মীপুরের অভিযান চালিয়ে কমলনগর থানা এলাকা থেকে সিয়াম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়। তার স্মার্টফোনে ‘সব এখানে’ নামক একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ‘সব এখানে’ নামীয় একটি অ্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রির কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর সিআইডির এসআই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
সিয়ামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বছরের ২৮ অক্টোবর খুলনার কয়রা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের অন্যতম অ্যাডমিন আল আমিনকে। আল আমিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানান, তিনি শুধু বিপণন দেখতেন, কিন্তু এই পুরো সিস্টেম এবং অ্যাপটি তৈরি করেছে এক দক্ষ প্রোগ্রামার।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ মে ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি এলাকা থেকে আরমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আরমান একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র। তিনি প্রোগ্রামিং এবং ওয়েব ডেভেলপিংয়ের কাজে খুবই দক্ষ। এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া আল আমিনের নির্দেশনা অনুসারে সবখানে ডট এক্সওয়াইজেট, সবএখানে ডট অনলাইন ও সবখানে ডট ইনফো নামের ওয়েবসাইটগুলো তৈরি করে।
পরবর্তী সময়ে ‘সব এখানে’ নামক অ্যাপ তৈরি করে এই চক্রের অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সম্পূর্ণ ডেটা, এসএমএস তালিকা, বিকাশ/রকেট/নগদ অর্থাৎ এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য বিবরণী এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্যসহ অন্যান্য বিভিন্ন তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের গোপনীয় সংবেদনশীল যেসব তথ্য বিক্রি করা হয়, সেগুলো জাতীয় গোপনীয় ডাটাবেজ থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব গোপনীয় সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে। এই চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে আসামির হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
এমএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















