ভারতের উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলার একটি গ্রামে গত শুক্রবার ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে তার ১১ বছর বয়সী কন্যাকে ছুরি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মঙ্গলবার বাড়িতে একা ছিল যখন তার মা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাইরে গিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে মেয়েটিকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখিয়ে যৌন নির্যাতন চালায়।
বাগপতের পুলিশ সুপার সুরজ রাই নিশ্চিত করেছেন যে, মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “থানায় আসার সময় মেয়েটি অত্যন্ত আতঙ্কিত ছিল এবং কথা বলার অবস্থায় ছিল না। একজন নারী কনস্টেবল তাকে ধৈর্যের সাথে কাউন্সেলিং করার পর সে সাহসের সাথে পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করে। সে পুলিশকে জানায় যে, তার বাবা তাকে ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন এবং ধর্ষণ করেছিলেন।”
মেয়েটির শরীরে কামড়ের দাগসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার বাবা তাকে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করেছিলেন এবং গলা কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন।
শুরুতে সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে মেয়েটির মা ঘটনাটি পুলিশকে জানাতে রাজি ছিলেন না। পরবর্তীতে শিশুটি দিল্লিতে বসবাসরত তার চাচার সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানায়। এরপর তার চাচা পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতর সিং জানান যে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, পকসো আইন এবং অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “অভিযুক্তকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপরাধে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।”
বর্তমানে ‘মিশন শক্তি’-র একটি দল শিশুটিকে ট্রমা থেকে কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় মানসিক কাউন্সেলিং প্রদান করছে।
এমএইচ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 




















