‘ইরানের বদলে এখন ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে ভারত’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও কূটনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ভারত এখন থেকে ইরানের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কিনবে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে এমন সব দেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে উৎসাহিত করছে যারা তাদের কৌশলগত মিত্র অথবা যাদের ওপর কোনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নেই।

ঐতিহাসিকভাবে ভারত ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হলেও দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে দেশটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল আমদানি করছে না। এই অবস্থায় ভেনেজুয়েলাকে একটি বিকল্প উৎস হিসেবে সামনে নিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং এই বাণিজ্য নিয়ে পূর্বে আরোপিত চড়া শুল্কের বিষয়টি নতুনভাবে বিবেচনার মাধ্যমে নয়াদিল্লিকে ভেনেজুয়েলার তেলের বাজারে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

একই সঙ্গে ভারত ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়টি ক্রমেই গভীর হচ্ছে, যা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের এই সম্ভাব্য অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ও ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতি, বাজার প্রবেশাধিকার এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব কীভাবে বিশ্ব জ্বালানি মানচিত্রকে পুনর্গঠিত করছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে।

সূত্র: দ্য টাইমস্ অব ইন্ডিয়া।

এমএইচ

জনপ্রিয়

বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

‘ইরানের বদলে এখন ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে ভারত’

প্রকাশিত : ০২:১১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও কূটনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ভারত এখন থেকে ইরানের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কিনবে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে এমন সব দেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে উৎসাহিত করছে যারা তাদের কৌশলগত মিত্র অথবা যাদের ওপর কোনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নেই।

ঐতিহাসিকভাবে ভারত ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হলেও দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে দেশটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল আমদানি করছে না। এই অবস্থায় ভেনেজুয়েলাকে একটি বিকল্প উৎস হিসেবে সামনে নিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং এই বাণিজ্য নিয়ে পূর্বে আরোপিত চড়া শুল্কের বিষয়টি নতুনভাবে বিবেচনার মাধ্যমে নয়াদিল্লিকে ভেনেজুয়েলার তেলের বাজারে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

একই সঙ্গে ভারত ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়টি ক্রমেই গভীর হচ্ছে, যা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের এই সম্ভাব্য অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ও ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতি, বাজার প্রবেশাধিকার এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব কীভাবে বিশ্ব জ্বালানি মানচিত্রকে পুনর্গঠিত করছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে।

সূত্র: দ্য টাইমস্ অব ইন্ডিয়া।

এমএইচ