মার্কিন হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন তুর্কি নাগরিক

মার্কিন হেফাজত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তুর্কি বিজ্ঞানী ফুরকান দোলেক। মঙ্গলবার ৫০,০০০ ডলার জামিনে তাঁর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।

টর্কিশ আমেরিকান ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটির (টিএএসসি) চেয়ারম্যান ও আইনজীবী সেয়িত সাহিন জানান, টেক্সাসের এল পাসোতে মেক্সিকো সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে দোলেককে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে তিনি তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে শিকাগোতে পৌঁছান।

টিএএসসির পক্ষে মামলাটি পর্যবেক্ষণকারী মাইকেল গোখান কিরানের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে সাহিন বলেন, “তুর্কি–আমেরিকান সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ড. ফুরকান দোলেকের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া এই দায়িত্ব পালনেরই অংশ।”

টিএএসসির উদ্যোগে তুর্কি–আমেরিকান কমিউনিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে জামিনের অর্থ সংগ্রহ করে। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে দোলেক শিকাগোতেই অবস্থান করবেন।

গবেষণাগারে অনিয়ম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের অভিযোগ

ফুরকান দোলেক ভার্জিনিয়া টেক এবং সুইজারল্যান্ডের সিইআরএন–এ পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ফার্মিল্যাব কণা–পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগারে যোগ দেন।

২০২৪ সালের মার্চে তিনি ল্যাবে সম্ভাব্য বিকিরণ ঝুঁকি, অনিরাপদ পরিবেশ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য প্রকাশের পর তাকে এপ্রিল মাসে বরখাস্ত করা হয় এবং তাঁর গবেষণা ভিসা বাতিল করা হয়।

লিংকডইনে প্রকাশিত বিবৃতিতে দোলেক দাবি করেন, তিনি ল্যাবে গবেষকদের শোষণ, অনিরাপদ পরিবেশ, অনিয়ম গোপন, প্রতিশোধমূলক আচরণ এবং জালিয়াতিসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর ভাষায়, “প্রত্যেক সরকারি হুইসেলব্লোয়ার চ্যানেলে রিপোর্ট করেছি। সুরক্ষা পাওয়ার বদলে শাস্তি পেয়েছি—মিথ্যা অভিযোগ, বরখাস্ত এবং প্রতিষ্ঠানের নীরবতা।”

ভিসা বাতিল, মামলা ও গ্রেপ্তার

ভিসা বাতিলের বিরুদ্ধে দোলেক আদালতে মামলা করলেও তাতে সফল হননি। এরপর তিনি কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাস করেন।

প্রতিবাদের অংশ হিসেবে চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে তিনি কানাডার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন, যা তুর্কি–আমেরিকান সম্প্রদায় ও একাডেমিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।

২৭ আগস্ট তাঁর সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর তিনি নিখোঁজ হন। পরে তুর্কি কনস্যুলেটের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ৪ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে নিউইয়র্কের বাফেলো ফেডারেল ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক রাখা হয়েছে।

বর্তমানে দোলেক জামিনে মুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়া পরবর্তী সময়ে এগিয়ে যাবে।

এমএইচ

জনপ্রিয়

বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

মার্কিন হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন তুর্কি নাগরিক

প্রকাশিত : ০৬:১৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

মার্কিন হেফাজত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তুর্কি বিজ্ঞানী ফুরকান দোলেক। মঙ্গলবার ৫০,০০০ ডলার জামিনে তাঁর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।

টর্কিশ আমেরিকান ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটির (টিএএসসি) চেয়ারম্যান ও আইনজীবী সেয়িত সাহিন জানান, টেক্সাসের এল পাসোতে মেক্সিকো সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে দোলেককে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে তিনি তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে শিকাগোতে পৌঁছান।

টিএএসসির পক্ষে মামলাটি পর্যবেক্ষণকারী মাইকেল গোখান কিরানের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে সাহিন বলেন, “তুর্কি–আমেরিকান সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ড. ফুরকান দোলেকের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া এই দায়িত্ব পালনেরই অংশ।”

টিএএসসির উদ্যোগে তুর্কি–আমেরিকান কমিউনিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে জামিনের অর্থ সংগ্রহ করে। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে দোলেক শিকাগোতেই অবস্থান করবেন।

গবেষণাগারে অনিয়ম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের অভিযোগ

ফুরকান দোলেক ভার্জিনিয়া টেক এবং সুইজারল্যান্ডের সিইআরএন–এ পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ফার্মিল্যাব কণা–পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগারে যোগ দেন।

২০২৪ সালের মার্চে তিনি ল্যাবে সম্ভাব্য বিকিরণ ঝুঁকি, অনিরাপদ পরিবেশ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য প্রকাশের পর তাকে এপ্রিল মাসে বরখাস্ত করা হয় এবং তাঁর গবেষণা ভিসা বাতিল করা হয়।

লিংকডইনে প্রকাশিত বিবৃতিতে দোলেক দাবি করেন, তিনি ল্যাবে গবেষকদের শোষণ, অনিরাপদ পরিবেশ, অনিয়ম গোপন, প্রতিশোধমূলক আচরণ এবং জালিয়াতিসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর ভাষায়, “প্রত্যেক সরকারি হুইসেলব্লোয়ার চ্যানেলে রিপোর্ট করেছি। সুরক্ষা পাওয়ার বদলে শাস্তি পেয়েছি—মিথ্যা অভিযোগ, বরখাস্ত এবং প্রতিষ্ঠানের নীরবতা।”

ভিসা বাতিল, মামলা ও গ্রেপ্তার

ভিসা বাতিলের বিরুদ্ধে দোলেক আদালতে মামলা করলেও তাতে সফল হননি। এরপর তিনি কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাস করেন।

প্রতিবাদের অংশ হিসেবে চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে তিনি কানাডার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন, যা তুর্কি–আমেরিকান সম্প্রদায় ও একাডেমিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।

২৭ আগস্ট তাঁর সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর তিনি নিখোঁজ হন। পরে তুর্কি কনস্যুলেটের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ৪ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে নিউইয়র্কের বাফেলো ফেডারেল ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক রাখা হয়েছে।

বর্তমানে দোলেক জামিনে মুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়া পরবর্তী সময়ে এগিয়ে যাবে।

এমএইচ