টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে ফের ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী। সোমবার রাত ৮টায় দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার (৫২.২৫) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও দুপুর ৩টায় তিস্তা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
তিস্তা নদীর পানি দুপুর ৩টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৮ সেন্টিমিটার এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি আরো জানান, আগাম বার্তা অনুযায়ী তিস্তার পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। যা বড় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী (দায়িত্বরত) মাহমুদুল ইসলাম শোভন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এছাড়াও এ সময়ে গাইবান্ধা জেলায় তিস্তা নদী ও কুড়িগ্রাম জেলায় ধরলা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, রাত ৮টায় তিস্তা নদী বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। প্রবাহিত পানি লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে পারে বলে তিনি জানান।
এমএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















