ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত ব্রিটিশ-আমেরিকান যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)সহ বিভিন্ন দেশের সামরিক বিশ্লেষক ও কর্মকর্তারা এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে পুনর্বিবেচনা শুরু করেছেন।
ইসরাইলের চিফ অব স্টাফ আইয়াল জামির শনিবার (২১ মার্চ) সতর্ক করে বলেন, ডিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে হামলার এই প্রচেষ্টা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে ইউরোপের বড় বড় শহর—বার্লিন, প্যারিস ও রোম—এখন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে এসেছে। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এটিকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার ইরান ওই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দুটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে কোনোটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। একটি মাঝ আকাশেই ব্যর্থ হয়, অন্যটি প্রতিহত করার জন্য একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর ছোড়া হলেও সেটি সফল হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয়। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তবে পশ্চিমা প্রতিরক্ষা মহলের উদ্বেগের মূল কারণ ক্ষেপণাস্ত্রের ফলাফল নয়, বরং এর পাল্লা। ডিয়েগো গার্সিয়া ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে—যা তেহরানের আগে ঘোষিত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণ।
এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক এই হামলার প্রচেষ্টা সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সিও এটিকে ‘উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধারণার চেয়েও বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মধ্যাঞ্চল থেকে উৎক্ষেপণ করা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তাত্ত্বিকভাবে ইউরোপের গভীর অঞ্চল পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। উৎক্ষেপণস্থলের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে মহাদেশটির প্রায় সব রাজধানীই এই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
এমএইচ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















