ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কোনো সরাসরি হামলায় ব্রিটেন অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা খুবই কম, তবে তেহরান যদি পাল্টা আঘাত হানে সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে সুরক্ষা দিতে প্রস্তুত রয়েছে লন্ডন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহে কাতারে ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর (আরএএফ) একঝাঁক ‘টাইফুন’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা তেহরানের যেকোনো পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, ইরানের ওপর মার্কিনীদের ‘প্রথম আঘাত’ বা ফার্স্ট স্ট্রাইক ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে কাতার বা অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্ররা যদি আত্মরক্ষার তাগিদে সাহায্যের আবেদন করে, তবে ব্রিটিশ বাহিনী সেখানে যুক্ত হতে পারে।
সম্প্রতি লিংকনশায়ার থেকে আরএএফ-এর ১২ নম্বর স্কোয়াড্রন কাতারে তাদের ঘাঁটিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই পদক্ষেপে কাতারের অনুরোধ কাজ করেছে বলে ব্রিটিশ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। মূলত ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য পাল্টাপাল্টি হামলা থেকে কাতারকে সুরক্ষা দেওয়াই এই মোতায়েনের প্রধান উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, কাতারে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন বিমানঘাঁটি আল-উদাইদ অবস্থিত, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্রিটিশ সেনাও কর্মরত রয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানি বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে দেশটিতে বোমাবর্ষণ করেন, তবে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ও তার মিত্রদের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে চীন সফরকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি জানান যে, তার সরকারের মূল লক্ষ্য এবং মনোযোগ হলো ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
স্টারমার বলেন যে, ‘সব মিত্র দেশ এই বিষয়ে একমত এবং আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।’ তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়ে নিজের জন্য সামরিক বিকল্পগুলো খোলা রাখছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিল ও অক্টোবর মাসে ইসরায়েলের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ব্রিটেন আত্মরক্ষামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় সহায়তা দিয়েছিল। টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো মূলত ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় কার্যকর, তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার ক্ষমতা এগুলোর নেই।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ বা ‘থাড’ এর মতো বিশেষায়িত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতেও মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যাদের লক্ষ্য মূলত জর্ডান, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা রক্ষা করা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এমএইচ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 










