যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পতনের খবরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভেনেজুয়েলার প্রবাসীরা বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) মাদুরোর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে স্পেনের রাজপথ পর্যন্ত আনন্দ মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে। ২০১৪ সালের পর থেকে খাদ্যাভাব ও চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৭৭ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশই দেশ ছেড়েছেন, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিবাসন সংকট হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে নিজের দেশে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন এখন লাখ লাখ ভেনেজুয়েলীয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদুরোর পতনকে ‘স্বাধীনতার দিন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রবাসীরা আনন্দ প্রকাশ করলেও দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরণের সতর্ক অনিশ্চয়তাও কাজ করছে।
ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশগুলোতে সবচেয়ে বড় উদযাপন দেখা গেছে। ২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ভেনেজুয়েলীয়র আশ্রয়স্থল কলম্বিয়া এবং ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন প্রবাসীকে আশ্রয় দেওয়া পেরুতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ প্রকাশ করেন। পেরুর প্রেসিডেন্ট জোসে জেরি এক বার্তায় জানিয়েছেন, তার সরকার ভেনেজুয়েলীয়দের দ্রুত দেশে ফেরার সব ব্যবস্থা সহজ করবে।
চিলিতে বসবাসরত খতি ইয়ানেজ বলেন, ‘আমরা আজ মুক্ত; স্বৈরতন্ত্রের পতনে আমরা সবাই আনন্দিত।’ অন্যদিকে ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে আয়োজিত এক মিছিলে সিনথিয়া ডিয়াজ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব শীঘ্রই ভেনেজুয়েলা একটি স্বাধীন ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে। তবে এই আনন্দের পাশাপাশি কারাকাসে চলমান সংঘাত নিয়ে অনেক প্রবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং একে স্বাধীনতার পথে একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন।
ভেনেজুয়েলার এই আনন্দঘন মুহূর্তের মাঝেই দেশটির ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, একটি সুশৃঙ্খল ও সঠিক অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং প্রয়োজনে দেশটিতে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
স্পেনের মাদ্রিদে হাজার হাজার প্রবাসী ট্রাম্পের এই লাইভ সংবাদ সম্মেলন দেখে করতালি দিলেও অনেকের মনেই প্রশ্ন—দেশটি কি শেষ পর্যন্ত পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে? কুইটোতে সমবেত মারিয়া ফার্নান্দা মনসিলভার মতো অনেকে আশা করছেন যে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রধান প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস যেন ক্ষমতার দায়িত্ব পান। প্রবাসীদের বড় একটি অংশ মাদুরোর পতনকে দেশের অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফেরার ‘প্রথম ধাপ’ বলে মনে করছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





















