আকাশ ও নৌপথে যোগাযোগ চায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান 

দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আকাশ ও নদীপথে যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিত বাড়াতে চায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের নবম (জেইসি) বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানায় দুই দেশ।

প্রায় দুই দশক পর অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের নবম (জেইসি) বৈঠক। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

২০০৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সর্বশেষ জেইসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে পাট ও কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন অর্থ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আর পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন দেশটির জ্বালানি (পেট্রোলিয়াম বিভাগ) মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

দীর্ঘ দুই দশক পর এ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি এনেছে। বিশেষ করে গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উষ্ণতা বাড়তে শুরু করেছে।

সভা শেষে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ২০ বছর পর এই জেইসি বৈঠক হলো। একটি ইতিবাচক আলোচনার ধারা সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্য ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে, এর পরিমাণ বাড়ানো উচিত। পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে পাটসহ কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াতে চায়। দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আকাশ ও নৌপথে সরাসরি যোগাযোগ আবার চালু, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং পাকিস্তান হালাল অথরিটির (পিএইচএ) মধ্যে ‘হালাল বাণিজ্য সহযোগিতা’ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

এছাড়াও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, জ্বালানি, উচ্চশিক্ষা, ব্যাংকিং, পর্যটন, ক্রীড়া, বন্দর ও লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় হ্রাস ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় আলোচনায় স্থান পায়।

 

ট্যাগ :

অপারেশন সিঁদুরের পর প্রথমবার পাকিস্তানি মন্ত্রীকে দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানাল ভারত

আকাশ ও নৌপথে যোগাযোগ চায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান 

প্রকাশিত : ০৭:৪০:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আকাশ ও নদীপথে যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিত বাড়াতে চায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের নবম (জেইসি) বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানায় দুই দেশ।

প্রায় দুই দশক পর অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের নবম (জেইসি) বৈঠক। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

২০০৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সর্বশেষ জেইসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে পাট ও কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন অর্থ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আর পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন দেশটির জ্বালানি (পেট্রোলিয়াম বিভাগ) মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

দীর্ঘ দুই দশক পর এ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি এনেছে। বিশেষ করে গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উষ্ণতা বাড়তে শুরু করেছে।

সভা শেষে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ২০ বছর পর এই জেইসি বৈঠক হলো। একটি ইতিবাচক আলোচনার ধারা সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্য ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে, এর পরিমাণ বাড়ানো উচিত। পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে পাটসহ কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াতে চায়। দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আকাশ ও নৌপথে সরাসরি যোগাযোগ আবার চালু, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং পাকিস্তান হালাল অথরিটির (পিএইচএ) মধ্যে ‘হালাল বাণিজ্য সহযোগিতা’ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

এছাড়াও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, জ্বালানি, উচ্চশিক্ষা, ব্যাংকিং, পর্যটন, ক্রীড়া, বন্দর ও লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় হ্রাস ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় আলোচনায় স্থান পায়।