নতুন পে-স্কেল : বেতন সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতা কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’।

নতুন বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এ আদেশ কার্যকর ধরা হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত অর্থ ও বকেয়া বেতন ৩টি ভিন্ন ধাপে পাবেন।

তিন ধাপে কার্যকর হবে বর্ধিত বেতন ও সুবিধা

প্রথম ধাপ ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যকর হবে। এই ধাপে ১ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতনবৃদ্ধির পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় ধাপ ২০২৭ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে কার্যকর হবে। এই ধাপে ১ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের কর্মকর্তাদের জন্য ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে।

তৃতীয় ধাপ বা শেষ ধাপ ২০২৭ সালে ১ জুলাইয়ে কার্যকর করা হবে। বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ (ইনক্রিমেন্ট) শতভাগ মূল বেতন ও সুবিধা কার্যকর হবে।

ভাতার ক্ষেত্রে জানানো হয়, উৎসব ভাতা ও নববর্ষ ভাতা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্তমান হারেই বহাল থাকবে এবং ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন স্কেল অনুযায়ী দেওয়া হবে।

২০টি গ্রেডের নতুন বেতন স্কেল

১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত নতুন স্কেলের মূল বেতনের বিষয় প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়।

যেমন-
১ম গ্রেড : ১,৫৬,০০০ টাকা (নির্ধারিত)
২য় গ্রেড : ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা
৩য় গ্রেড : ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা
৪র্থ গ্রেড : ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা
৫ম গ্রেড : ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা
৬ষ্ঠ গ্রেড : ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা
৭ম গ্রেড : ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা
৮ম গ্রেড : ৪৬,০০০ – ১,১০,৮০০ টাকা
৯ম গ্রেড : ৪৪,০০০ – ১,০৫,৯০০ টাকা
১০ম গ্রেড : ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা
১১তম গ্রেড : ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা
১২তম গ্রেড : ২৪,৩০০ – ৫৪,৭০০ টাকা
১৩তম গ্রেড : ২৪,০০০ – ৫৬,০০০ টাকা
১৪তম গ্রেড : ২৫,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা
১৫তম গ্রেড : ২২,৮০০ – ৫১,২০০ টাকা
১৬তম গ্রেড : ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা
১৭তম গ্রেড : ২১,৪০০ – ৫১,১০০ টাকা
১৮তম গ্রেড : ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা
১৯তম গ্রেড : ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা
২০তম গ্রেড : ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা

প্রজ্ঞাপনে বিশেষ পদ মর্যাদায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের মূল বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাড়ি ভাড়া ও বিভিন্ন ভাতা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন ‘জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬’-এর আওতায় বাড়ি ভাড়া, টিফিন, মোবাইল, যাতায়াতসহ সার্বিক ভাতার বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেছে অর্থ বিভাগ।

গেজেটের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মচারীর কর্মস্থলের অবস্থান ও বেতন গ্রেডের ওপর ভিত্তি করে মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে বাড়ি ভাড়া নির্ধারিত হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬ থেকে গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, ১০ম গ্রেড থেকে ১৫তম গ্রেডে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ৫ গ্রেড ৫ থেকে ৯তম গ্রেডে মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ এবং ১ গ্রেড থেকে ৪র্থ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দিতে হবে।

অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও নির্দিষ্ট এলাকা যেমন- চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়া সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকায় ১৬ তম গ্রেড ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ১০ম গ্রেড ১০ থেকে ১৫তম গ্রেডে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, ৫ গ্রেড থেকে ৯তম গ্রেডে মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ, ১ম গ্রেড ১ থেকে ৪র্থ এবং তদূর্ধ্ব মূল বেতনের ৩০ শতাংশ বাড়ি বাড়বে।

এছাড়া জেলা সদর, উপজেলা ও অন্যান্য এলাকায় ১৬তম গ্রেড ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ, ১০ম গ্রেড ১০ থেকে ১৫তম গ্রেডে মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ, ৫ গ্রেড থেকে ৯তম গ্রেডে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ, ১ম গ্রেড ১ থেকে ৪র্থ এবং তদূর্ধ্ব মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ বাড়ি বাড়বে।

তবে সরকারি বাসায় বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে কোনো বাড়ি ভাড়া ভাতা দেওয়া হবে না। এছাড়া স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সরকারি বা স্বশাসিত সংস্থায় কর্মরত হলে এবং সরকারি বাসস্থানে থাকলে যার নামে বাসা বরাদ্দ, তার বেতন থেকে নির্ধারিত ভাড়ার টাকা কাটা যাবে।

চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা

চিকিৎসা ভাতার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা। ৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা, ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে মাসিক ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে শিক্ষা সহায়ক ভাতার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে সন্তান প্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য হাজার টাকা দেওয়া হবে। সন্তানের বয়স ২৩ বছর হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দাখিল সাপেক্ষে এ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

এছাড়া প্রজ্ঞাপনে সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন এবং ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা মাসিক মোবাইল ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসিক ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন।

অন্যদিকে পার্বত্য জেলার জেলা সদর ও সদরের উপজেলায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাহাড়ি ভাতা এবং অন্যান্য উপজেলায় কর্মরতরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫,৫০০ টাকা পাহাড়ি ভাতা পাবেন। আর হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতা এলাকার সব দুর্গম এলাকায় নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিশেষ ভাতা ধার্য করা হয়েছে।

আপ্যায়ন ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব/প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মাসিক ২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিব/সচিব ১ হাজার টাকা, অতিরিক্ত সচিব ৯০০ টাকা এবং যুগ্মসচিব ও অন্যান্য প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তারা ৬০০ টাকা আপ্যায়ন ভাতা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপন বলা হয়েছে।

এছাড়া অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে মাসিক ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত কার্যভার ভাতা এবং সব কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে নববর্ষ ভাতা পাবেন।

পেনশন ও অবসর সুবিধা

নতুন প্রজ্ঞাপনে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের পেনশন এবং আনুতোষিক সুবিধার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বিদ্যমান নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে পেনশনভোগীদের নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে। চলতি বছরের ৩০ জুন থেকে প্রাপ্ত নিট পেনশনের স্ল্যাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে।

পেনশনের ক্ষেত্রেও বেতনবৃদ্ধির মতোই ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১ম ধাপে ৪০% ও ৫০% (স্ল্যাব অনুযায়ী) হারে বর্ধিত অংশ দেওয়া হবে।

২য় ধাপে (১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭) তা ৭০% ও ৭৫% হারে দেওয়া হবে এবং ৩য় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে পেনশন ও গ্র্যাচুইটির বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে। অবসরভোগী এবং আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরা ১ জুলাই থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশন বকেয়া হিসেবে পাবেন।

উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতিসংক্রান্ত নিয়মের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯তম বছরে ১ম উচ্চতর গ্রেড পাবেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৬ বছর চাকরি পূর্ণ হলে তিনি ২য় উচ্চতর গ্রেড পাবেন। তবে সমগ্র চাকরিজীবনে কোনো কর্মচারী ২টির বেশি উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিস (সামরিক পদসমূহ), পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, দৈনন্দিন বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কর্মীরা এই বেতন কাঠামোর আওতায় থাকবেন না।

এমএইচ

নতুন পে-স্কেল : বেতন সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা

প্রকাশিত : ০৭:২৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতা কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’।

নতুন বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এ আদেশ কার্যকর ধরা হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত অর্থ ও বকেয়া বেতন ৩টি ভিন্ন ধাপে পাবেন।

তিন ধাপে কার্যকর হবে বর্ধিত বেতন ও সুবিধা

প্রথম ধাপ ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যকর হবে। এই ধাপে ১ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতনবৃদ্ধির পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় ধাপ ২০২৭ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে কার্যকর হবে। এই ধাপে ১ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের কর্মকর্তাদের জন্য ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে।

তৃতীয় ধাপ বা শেষ ধাপ ২০২৭ সালে ১ জুলাইয়ে কার্যকর করা হবে। বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ (ইনক্রিমেন্ট) শতভাগ মূল বেতন ও সুবিধা কার্যকর হবে।

ভাতার ক্ষেত্রে জানানো হয়, উৎসব ভাতা ও নববর্ষ ভাতা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্তমান হারেই বহাল থাকবে এবং ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন স্কেল অনুযায়ী দেওয়া হবে।

২০টি গ্রেডের নতুন বেতন স্কেল

১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত নতুন স্কেলের মূল বেতনের বিষয় প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়।

যেমন-
১ম গ্রেড : ১,৫৬,০০০ টাকা (নির্ধারিত)
২য় গ্রেড : ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা
৩য় গ্রেড : ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা
৪র্থ গ্রেড : ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা
৫ম গ্রেড : ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা
৬ষ্ঠ গ্রেড : ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা
৭ম গ্রেড : ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা
৮ম গ্রেড : ৪৬,০০০ – ১,১০,৮০০ টাকা
৯ম গ্রেড : ৪৪,০০০ – ১,০৫,৯০০ টাকা
১০ম গ্রেড : ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা
১১তম গ্রেড : ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা
১২তম গ্রেড : ২৪,৩০০ – ৫৪,৭০০ টাকা
১৩তম গ্রেড : ২৪,০০০ – ৫৬,০০০ টাকা
১৪তম গ্রেড : ২৫,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা
১৫তম গ্রেড : ২২,৮০০ – ৫১,২০০ টাকা
১৬তম গ্রেড : ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা
১৭তম গ্রেড : ২১,৪০০ – ৫১,১০০ টাকা
১৮তম গ্রেড : ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা
১৯তম গ্রেড : ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা
২০তম গ্রেড : ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা

প্রজ্ঞাপনে বিশেষ পদ মর্যাদায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের মূল বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাড়ি ভাড়া ও বিভিন্ন ভাতা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন ‘জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬’-এর আওতায় বাড়ি ভাড়া, টিফিন, মোবাইল, যাতায়াতসহ সার্বিক ভাতার বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেছে অর্থ বিভাগ।

গেজেটের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মচারীর কর্মস্থলের অবস্থান ও বেতন গ্রেডের ওপর ভিত্তি করে মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে বাড়ি ভাড়া নির্ধারিত হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬ থেকে গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, ১০ম গ্রেড থেকে ১৫তম গ্রেডে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ৫ গ্রেড ৫ থেকে ৯তম গ্রেডে মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ এবং ১ গ্রেড থেকে ৪র্থ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দিতে হবে।

অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও নির্দিষ্ট এলাকা যেমন- চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়া সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকায় ১৬ তম গ্রেড ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ১০ম গ্রেড ১০ থেকে ১৫তম গ্রেডে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, ৫ গ্রেড থেকে ৯তম গ্রেডে মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ, ১ম গ্রেড ১ থেকে ৪র্থ এবং তদূর্ধ্ব মূল বেতনের ৩০ শতাংশ বাড়ি বাড়বে।

এছাড়া জেলা সদর, উপজেলা ও অন্যান্য এলাকায় ১৬তম গ্রেড ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ, ১০ম গ্রেড ১০ থেকে ১৫তম গ্রেডে মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ, ৫ গ্রেড থেকে ৯তম গ্রেডে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ, ১ম গ্রেড ১ থেকে ৪র্থ এবং তদূর্ধ্ব মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ বাড়ি বাড়বে।

তবে সরকারি বাসায় বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে কোনো বাড়ি ভাড়া ভাতা দেওয়া হবে না। এছাড়া স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সরকারি বা স্বশাসিত সংস্থায় কর্মরত হলে এবং সরকারি বাসস্থানে থাকলে যার নামে বাসা বরাদ্দ, তার বেতন থেকে নির্ধারিত ভাড়ার টাকা কাটা যাবে।

চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা

চিকিৎসা ভাতার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা। ৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা, ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে মাসিক ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে শিক্ষা সহায়ক ভাতার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে সন্তান প্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য হাজার টাকা দেওয়া হবে। সন্তানের বয়স ২৩ বছর হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দাখিল সাপেক্ষে এ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

এছাড়া প্রজ্ঞাপনে সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন এবং ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা মাসিক মোবাইল ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসিক ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন।

অন্যদিকে পার্বত্য জেলার জেলা সদর ও সদরের উপজেলায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাহাড়ি ভাতা এবং অন্যান্য উপজেলায় কর্মরতরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫,৫০০ টাকা পাহাড়ি ভাতা পাবেন। আর হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতা এলাকার সব দুর্গম এলাকায় নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিশেষ ভাতা ধার্য করা হয়েছে।

আপ্যায়ন ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব/প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মাসিক ২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিব/সচিব ১ হাজার টাকা, অতিরিক্ত সচিব ৯০০ টাকা এবং যুগ্মসচিব ও অন্যান্য প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তারা ৬০০ টাকা আপ্যায়ন ভাতা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপন বলা হয়েছে।

এছাড়া অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে মাসিক ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত কার্যভার ভাতা এবং সব কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে নববর্ষ ভাতা পাবেন।

পেনশন ও অবসর সুবিধা

নতুন প্রজ্ঞাপনে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের পেনশন এবং আনুতোষিক সুবিধার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বিদ্যমান নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে পেনশনভোগীদের নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে। চলতি বছরের ৩০ জুন থেকে প্রাপ্ত নিট পেনশনের স্ল্যাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে।

পেনশনের ক্ষেত্রেও বেতনবৃদ্ধির মতোই ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১ম ধাপে ৪০% ও ৫০% (স্ল্যাব অনুযায়ী) হারে বর্ধিত অংশ দেওয়া হবে।

২য় ধাপে (১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭) তা ৭০% ও ৭৫% হারে দেওয়া হবে এবং ৩য় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে পেনশন ও গ্র্যাচুইটির বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে। অবসরভোগী এবং আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরা ১ জুলাই থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশন বকেয়া হিসেবে পাবেন।

উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতিসংক্রান্ত নিয়মের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯তম বছরে ১ম উচ্চতর গ্রেড পাবেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৬ বছর চাকরি পূর্ণ হলে তিনি ২য় উচ্চতর গ্রেড পাবেন। তবে সমগ্র চাকরিজীবনে কোনো কর্মচারী ২টির বেশি উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিস (সামরিক পদসমূহ), পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, দৈনন্দিন বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কর্মীরা এই বেতন কাঠামোর আওতায় থাকবেন না।

এমএইচ